ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

মিরপুরে ছিন্নমূল সমবায় সমিতির কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ,নিরব কর্তৃপক্ষ

ads
রাজধানীর মিরপুরে সমবায় আইন ও মার্কেট পরিচালনায় কোনো নিয়মনীতিরই তোয়াক্কা না করে ছিন্নমূল বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমবায় সমিতির সদস্যদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। 

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও তাদের আমাণত ও বরাদ্দ অনুযায়ী প্রাপ্য বুঝে পাননি  দাবি করে সমিতিটির সাবেক সেক্রেটারি হামিদুর রহমান সোহেল চৌধুরী বলেন, সমিতিটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সভাপতি ছিলেন আবদুল লতিফ দেওয়ান। এরপরে নির্বাচনের মাধ্যমে অনেকেই সভাপতি-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তবে আমি ২০০৬ সালের নির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ২০০৯ সালের ১২ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনেও নির্বাচিত হলে ৫ ফেব্রুয়ারী ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আমিনুর রহমান,সমবায় অধিদপ্তরের তৎকালীন থানা সমবায় কর্মকর্তা আবুল বাসার চোকদার ও শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জের উপস্থিতিতে আমাদেরকে মার্কেটের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। কিন্ত খবিরুজ্জামান বাচ্চু, সভাপতি লতিফ দেওয়ানের দুই ছেলে মুক্তার দেওয়ান ও আক্তার দেওয়ানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল প্রভাব খাটিয়ে  আমাদেরকে জোর করে মার্কেট থেকে বের করে দেন। এমনকি সমিতির সদস্যদের টাকায় কেনা গোদারাঘাটের ২৪ কাঠা জমি যার বর্তমান বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকা-সেই জমি তিন কোটি টাকায় বিক্রি করে কাগজ-কলমে মাত্র দেড় কোটি টাকা দেখিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয় খবিরুজ্জামান বাচ্চু,আক্তার দেওয়ান,মুক্তার দেওয়ান ও আব্দুর রব দেওয়ানের কারসাজিতেই।
সোহেল আরো বলেন,মার্কেটটি ৯ তলা হওয়ার কথা থাকলেও দূর্নীতির কারনে সেটি পাঁচ তলা পর্যন্ত নির্মিত হয়ে বেহাল অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে। এক্ষেত্রেও কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগ করে সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ রুহুল আমিন জানান,আমরা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আমাদেরকে কোনো দোকানপাট বরাদ্দ দেওয়া তো দূরের কথা মার্কেটের ধারেকাছেও যেতে দেননা।সমিতির সদস্যদের টাকায় মিরপুর-১ নম্বরের বি ব্লকের আট নম্বর হোল্ডিংয়ে সমিতির তৎকালীন সভাপতি লতিফ দেওয়ানের নামে কেনা জমিতে একটি বহুতল ভবন নির্মান করে সেটি প্রভাব খাটিয়ে ভোগদখল করছেন তার দুই ছেলে আক্তার দেওয়ান ও মুক্তার দেওয়ান। আমরা প্রতিবাদ করলেই বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন।

অপর এক ভুক্তভোগী মাসুদ জানান,তারা প্রতারণার কৌশল হিসেবে সমিতির সদস্যদের বিভক্ত করে মূল সদস্য ও প্রকল্প সদস্য নামে আলাদা আলাদা ভাগে ভাগ করেছেন। এমনকি বহুতল মার্কেটটিকে ছিন্নমূল বহুমুখী সমবায় সমিতি মার্কেট থেকে এশিয়ান শপিং কমপ্লেক্স নামে পরিবর্তন করার পায়তারাতেও নেমেছেন তারা। আমরা আমাদের প্রাপ্য ন্যায্য অধিকার চাইতে গেলে বিভিন্ন প্রকার মামলার আসামী করার ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। 
শাহাদাৎ হোসেন নামে প্রতারণার স্বীকার সমিতির অপর এক সদস্য সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমি দীর্ঘদিন সৌদি আরবের একটি কোম্পানিতে চাকরি করে সমুদয় অর্থ এই সমিতিতে বিনিয়োগ করেছি। কিন্ত এই বাচ্চু গং আমার সাথেও প্রতারণা করেছেন। আমার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে বললে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন তারা। সমবায় অধিদপ্তরে গেলে সমবায় কর্মকর্তাগণ আমাকে তাদের সাথে মিলে যাওয়ার শর্তে শুধু আমার পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্ত তাতে রাজি হয়ে আমি  সমিতির সকল সদস্যদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে তারা আমাকেও সমবায় অধিদপ্তর থেকে বের করে দেন।  
এসকল দূর্নীতির বিষয়ে সমিতির সাবেক সভাপতি লতিফ দেওয়ানের ছেলে বর্তমান সভাপতি ও অভিযুক্ত  মুক্তার দেওয়ান কোনো কথা  বলতে রাজি হননি।
তবে তার ভাই অপর অভিযুক্ত আক্তার দেওয়ান তাদের চাচা সাবেক সেক্রেটারি আব্দুর রব দেওয়ানকে দোষারোপ করে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন,আসলে এসকল অভিযোগ পরিপূর্ণ সত্য নয়। আমার চাচা আব্দুর রব দেওয়ান যখন সমিতির সেক্রেটারি ছিলেন, তিনিই তখন এসকল ব্যাপক দূর্নীতি করেছেন। এমনকি আমার চাচা আব্দুর রব দেওয়ানের বিরুদ্ধে একটি মামলায় ১ কোটি তিপ্পান্ন লাখ টাকা আত্মসাতের  অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে
রায়সহ ও সেই টাকা ফেরত দিতে নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। তার অপরাধ ঢাকতেই তিনিই পেশিশক্তি খাটিয়ে লোকজনদের ব্যবহার করে নানান ঝামেলা তৈরী করার পাশাপাশি আমাদেরকে দোষী প্রমান করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। 
আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে আক্তার আরো বলেন, আমরা জোর করে বাড়ির জমি দখল করি নাই। আজকে যারা সমিতির সদস্য দাবি করছেন, তারাই আমার বাবা আবদুল লতিফ দেওয়ানের নামে এককভাবে জমি লিখে দিয়েছেন। মার্কেটের দূর্নীতির বিষয়ে আর কি বলবো? আপনারা তো জানেনই,বর্তমানে কোন বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হলে নিয়মের বাইরেও কিছু অদৃশ্য খরচ আছেই। যেমন রাজউক,ভূমি অফিসে কিছু অর্থ খরচ করতে হয়েছে। যা এই মার্কেটটির সমিতির অর্থ থেকেই দিতে হয়েছে।
তবে রব দেওয়ান পাল্টা অভিযোগ করে সরাসরি জেলা সমবায় কর্মকর্তাদেরকে দায়ী করে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন,সমবায়ের কর্মকর্তারাই মূল কালপিট। তাদের যোগসাজশেই এসব দূর্নীতি করার সাহস পাচ্ছে এরা। যাদের সম্পদ তারা পায়না,অন্যরা খায়। বৈধ লোকজন অবৈধ আর অবৈধ লোকেরা বৈধ হয়ে গেলো কিভাবে। সমবায় অধিদপ্তর সহযোগীতা করলেই যাদের সম্পদ তারাই ভোগদখল করতে পারবে। আর আমার বিরুদ্ধে যে এক কোটি তিপ্পান্ন লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে কোর্ট রায় দিয়েছে, আমি সেই মামলা স্থগিত (Stay) করে রেখেছি।  

বিষয়টির সত্যতা জানতে চাইলে সমবায় অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত জেলা সমবায় অফিসার (ডিসিও) জহিরুল হক কোনো কথা বলতে রাজি নন দাবি করে বলেন,আমি আমার ডিজির অনুমতি ছাড়া বিষয়টি সম্পর্কে কোনো কথা বলতে পারবো না।
 
এবিষয়ে থানা সমবায় অফিসার  (টিসিও) আব্দুর রহিম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন,এবিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে আমার ডিসিও স্যার আমাকে নির্দেশনা দিবেন। আমি সেই নির্দেশনা অনুসারে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এবিষয়ে শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম আসাদুজ্জামান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, এসংক্রান্তে কোনো অভিযোগ এখনো পর্যন্ত আমার কাছে আসেনি। যদি অভিযোগ আসে অবশ্যই যথোপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ads
ads
ads

Our Facebook Page